সাফ কোটা বাতিলের দাবি থেকে সরে ফুটবলারদের নতুন প্রস্তাব ‘২+২’
· Prothom Alo

১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে সাফ কোটা বাতিলসহ ছয় দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন ফুটবলাররা। তবে আজ বাফুফের দুই সদস্য আমিরুল ইসলাম ও শাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে আলোচনার পর সাফ কোটার ব্যাপারে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন ফুটবলাররা, তবে দিয়েছেন দুটি নতুন প্রস্তাব।
চলতি মৌসুম থেকে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে সাফ অঞ্চলের পাঁচজন ফুটবলার ‘স্থানীয় খেলোয়াড়’ হিসেবে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। এর বাইরে বিদেশি কোটায় খেলতে পারছেন আরও তিনজন।
Visit turconews.click for more information.
সাফ কোটায় পাঁচজন ফুটবলার ‘স্থানীয়’ হিসেবে খেললে সত্যিকারের স্থানীয় খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ কমে যায় বলেই এ নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন ফুটবলাররা। অন্যদিকে এ নিয়মের সুবিধাভোগী ক্লাবগুলো বলছে, স্থানীয় খেলোয়াড়দের তুলনায় সাফের অন্য দেশের ফুটবলারদের তুলনামূলক কম পারিশ্রমিকে খেলাতে পারে তারা।
সাফ নারী ফুটবলে এবারও বাংলাদেশের গ্রুপে ভারতবাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় আজ ফুটবলারদের প্রতিনিধিদল আগের অবস্থান থেকে সরে এসে নতুন প্রস্তাবে বলেছে, এখন থেকে প্রতিটি দলে দুটি সাফ কোটা ও দুটি বিদেশি কোটা রাখা হোক। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম।
কথা বলছেন সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলামসভা শেষে মামুনুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগেরবার যখন বাফুফের কাছে চিঠি দেওয়া হয়, আমি তখন ঢাকায় ছিলাম না। ফুটবলারদের সাফ কোটা বাতিলের দাবিকে আমি ভিন্নভাবে দেখতে চাই। আমরা চাই ক্লাব ও ফুটবলার, দুই পক্ষের স্বার্থই রক্ষিত হোক। তাই আমরা এখন দুটি সাফ কোটা ও দুটি বিদেশি কোটা রাখার প্রস্তাব দিয়েছি। ফেডারেশন যেন আমাদের দাবিটি বিবেচনায় নেয়, সেটাই আমাদের চাওয়া।’
মামুনুল জানান, সাফের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই অঞ্চলের খেলোয়াড়েরা একে অন্যের দেশে স্থানীয় হিসেবে খেলার সুযোগ পাবেন। ‘সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হয়েছে’—বলেছেন তিনি।
সাফের খেলা ‘হোম অর অ্যাওয়ে’ পদ্ধতিতে, শুরু আগামী ১৫ জুনএর আগে ফুটবলাররা বাফুফে সভাপতির কাছে আবেদন করেছিলেন খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির প্যাডে। কিন্তু নতুন প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে সাদা কাগজে, যেখানে মোট ২০ জন ফুটবলার স্বাক্ষর করেছেন। বৈঠকে উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন মোহামেডানের মেহেদি মিঠু, আবাহনীর ইব্রাহিম, মিতুল মারমা ও রহমতগঞ্জের মাহমুদুল হাসান।
ফুটবলারদের নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে বাফুফের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আমরা ২৫ জন ফুটবলারকে ডেকেছিলাম, ২২ জন এসেছে। আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে, ফুটবলারদের অবস্থানও বেশ ইতিবাচক। বিষয়টি বাফুফে সভাপতিকে জানানো হবে এবং পরবর্তী নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’