পর্দা নামল ঢাকা মোটর শোর

· Prothom Alo

কয়েক বছর আগেও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ছাড়া আনকোরা গাড়ি বিক্রির প্রতিষ্ঠান ছিল হাতে গোনা। বিশ্বস্ততার দিক থেকে গ্রাহকেরা রিকন্ডিশন্ড গাড়িকেই অগ্রাধিকার দিত। সময় বদলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নেট দুনিয়ার কারণে গাড়ি পছন্দের ক্ষেত্রে গ্রাহকের পছন্দের সারিও দীর্ঘ হয়েছে। দেশেও এসেছে চীন, জার্মান, জাপানসহ বিখ্যাত অনেক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নিত্যনতুন প্রযুক্তির গাড়ি। জ্বালানির বিকল্প হিসেবে এসেছে বৈদ্যুতিক শক্তি। জ্বালানি নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে না থেকে বাইকচালকেরা ভিড়ছেন বৈদ্যুতিক বাইক কেনার সারিতে। লাখ টাকার মধ্যে বৈদ্যুতিক বাইক বা স্বল্প মূল্যে আনকোরা গাড়ি সম্পর্কে জানতে প্রদর্শনীতে দর্শকদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়।

২৩ এপ্রিল রাজধানীর কুড়িলে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছিল যানবাহনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘১৯তম ঢাকা অটো সিরিজ অব এক্সিবিশনস’। একই স্থানে একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা মোটর শো, ঢাকা বাইক শো এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বাইকের প্রদর্শনী ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) বাংলাদেশ এক্সপো। তিন দিনের এই জাঁকালো প্রদর্শনীর পর্দা নেমেছে আজ। প্রদর্শনীতে ২৫ লাখ টাকায় আনকোরা ৭ আসনের এমপিভি গাড়ি বিক্রি এবং প্রদর্শন করেছে চীনের অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান উলিংয়ের পরিবেশক র‍্যাংগস লিমিটেড। বড় পরিবারের জন্য গাড়ি পছন্দ করতে এসেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. ইকরাম খান। তিনি বলেন, ‘মূল্য সাশ্রয়ী গাড়িতে পুরো পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করা যায়, এমন একটি গাড়ি খুঁজতে মূলত প্রদর্শনীতে আসা। এখানে এসে উলিংয়ের কর্টেজ মডেলটি পছন্দ হয়েছে। চামড়ায় মোড়ানো এবং অডিও স্টিয়ারিং সুইচ, প্রশস্ত কনসোল বক্স, দুই রঙের অভ্যন্তরীণ সজ্জা, অগ্রিম আয়করের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৫ লিটার শক্তিশালী ইঞ্জিন এবং ১৬ ইঞ্চি অ্যালয় চাকা থাকার কারণে গাড়িটিকে আমার বেশ শক্তপোক্ত মনে হচ্ছে। তবে ব্র্যান্ডটি পরিচিত নয় বলে মনে একটু সংশয় রয়েছে।’

Visit truewildslot.com for more information.

ই-বাইকের প্রতি ছিল বিশেষ আগ্রহ

উলিংয়ের অন্য আরও দুটি গাড়ি বিক্রির জন্য প্রদর্শনীতে আনা হয়েছে, যার মধ্যে একটি প্লাগ-ইন-হাইব্রিড মডেলের এমপিভি। গাড়িটির মডেল ড্যারিয়ন পিএইচইভি। এই গাড়ি শুধু বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে ১২৫ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিতে পারে। ফুল ট্যাংক জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক শক্তি মিলিয়ে ১ হাজার কিলোমিটার পথ অনায়াসে অতিক্রম করে। গাড়িটির মূল্য ৪৩ লাখ টাকা।

৭ আসনের অন্য আরেকটি গাড়ির মডেল নিউ আলমাজ আরএস। গাড়িটির মূল্য ৩২ লাখ টাকা। মার্সিডিজ বেঞ্জ, টয়োটা, মিতশুবিশি, হোন্ডা, এমজি, প্রোটন, চেরি, চ্যাংগান, ডিপল, জিএসি, আইয়ন, ডংফেংসহ হরেক রকমের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নিত্যনতুন গাড়ির দেখা মিলেছে এই প্রদর্শনীতে। কোটি টাকার বেশি মূল্যের গাড়ি থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যেও গাড়ির দেখা মিলেছে। ছোট গাড়ি থেকে শুরু করে ৭ আসনের বিলাসবহুল বাহনে দর্শনার্থীদের পছন্দের তালিকাও দীর্ঘ হয়েছে।

ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি বৈদ্যুতিক বাইক ও স্কুটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রদর্শনীতে যাত্রা শুরু করেছে ইউরোপের বিখ্যাত বৈদ্যুতিক বাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভি মটো। দেশে ভি মটোর পরিবেশক সিমবা মোটরস। এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান সোহেল বিন আজাদ জানান, ঢাকা মোটর শোতে ভি মটোর স্টলে বাইকপ্রিয়দের জন্য ছিল দারুণ সব সারপ্রাইজ! ভি মটোর প্যাভিলিয়নে আগত দর্শনার্থীদের জন্য ‘টেস্ট রাইড’ দেওয়ার সুযোগ ছিল। এ ছাড়া বাইকপ্রেমীদের জন্য ভি মটোর স্টলে ছিল মূল্য ছাড়।

এমন পুরোনো (ভিনটেজ) গাড়িও দেখা গেছে এ প্রদর্শনীতে

মোটর সাইকেল নির্মাতা নামকরা প্রতিষ্ঠানদের অনুপস্থিতির কথা উল্লেখ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রাম চন্দ্র সৌরভ বলেন, ইয়ামাহা, হোন্ডা, বাজাজ এই কোম্পানিগুলোর অনুপস্থিতি জ্বালানিনির্ভর মোটরসাইকেলের প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তবে চারিদিকে বৈদ্যুতিক বাইকের জয়জয়কার। সিএফ মটোর এইসেভেন প্রো স্কুটারটি দারুণ। তবে মূল্যের ক্ষেত্রে পছন্দের বেশির ভাগ বাইকের মূল্য সাধারণ গ্রাহকদের হাতের নাগালে নেই। জ্বালানিনির্ভর লংজিয়া ব্র্যান্ডের ২৫০ সিসির স্কুটার অথবা ভিক্টোরিয়া ব্র্যান্ডের প্রিমিয়াম স্কুটারটি বেশ সুন্দর।

প্রদর্শনীতে লাখ টাকার নিচ থেকে শুরু করে পাঁচ লাখ টাকার বেশি মূল্যের বৈদ্যুতিক বাইক এবং অন্যান্য জ্বালানিনির্ভর বাইক প্রদর্শিত হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রে আকিজ, আরা, ফোটন, ফোরল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি প্রদর্শিত হয়। পাশাপাশি দেশীয় ব্র্যান্ডের মধ্যে বিভা টেক, বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্র্যান্ড এমইভির গাড়ি প্রদর্শনীতে দেখানো হয়।

প্রদর্শনীর একটি গাড়ি

এবারের আয়োজনে জাপান, ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ড, ৭০টির বেশি কোম্পানি, ২০০টি বুথ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। মোটরসাইকেল কোম্পানির মধ্যে অন্যতম ব্র্যান্ড ছিল জিহো বাংলাদেশ, সিএফ মটো বাংলাদেশ, লংজিয়া, ভিমোটো প্রভৃতি। গাড়ি কিনতে সহজ শর্তে ঋণের সুবিধা নিয়ে ইস্টার্ন, এনআরবি, ঢাকা, প্রাইম ও ট্রাস্ট ব্যাংকের বুথ ছিল। ইঞ্জিন অয়েল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানসহ দেখা মিলেছে অন্যান্য যন্ত্রাংশ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের। সৌর শক্তি ও ইনভার্টার প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈদ্যুতিক সমস্যার সমাধানে আধুনিক ব্যাটারি ও যন্ত্রও প্রদর্শিত হয়েছে।

আয়োজকেরা জানান, গতবারের তুলনায় এবারের প্রদর্শনীতে মোটরযানের ক্রয়-বিক্রয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এবারের আয়োজনে নতুন নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বাইক প্রদর্শিত হয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানি আকর্ষণীয় ছাড় দিয়েছে এবং ব্যাংকগুলোও সহজ শর্তে ঋণের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। ক্রেতাদের জন্য একই ছাদের নিচে সবকিছু যাচাই করে দেখার এটি একটি দারুণ সুযোগ।

‘ঢাকা মোটর শো’ ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই প্রদর্শনী মোটরপ্রেমী এবং অটোশিল্প ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য এক অনন্য মাধ্যম। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জ্ঞান ও প্রযুক্তির বিনিময় ঘটে, যা বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি দেশের মোটর, বাইক, যানবাহন ও ইলেকট্রিক ভেহিকেল খাতের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও উল্লেখ করেন আয়োজকেরা। ভবিষ্যতে এই আয়োজনের প্রসার বৃদ্ধি পাবে বলেও মতামত ব্যক্ত করেছেন আয়োজকেরা। প্রসঙ্গত, তিন দিনব্যাপী এই মেলা সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Read full story at source