গলফ কোর্সের ঘাস কাটতে কাটতে ক্রিকেটে লেনক্স
· Prothom Alo

বছরখানেক আগে ‘এ’ দলের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছিলেন জেইডেন লেনক্স, এবার তিনি এসেছেন নিউজিল্যান্ড জাতীয় দলের সঙ্গী হয়ে। মাঝের সময়টায় বাঁহাতি স্পিনারের জীবনের অনেক কিছুই নতুন করে লেখা হয়েছে। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন, ভারতের মাটিতে সিরিজ জেতাতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে পেশাজীবীদের যোগাযোগমাধ্যম লিংকড ইনে লেনক্সের প্রোফাইল। ক্রিকেটার হওয়া মানে ছোটবেলা থেকেই নিজেকে গড়ে তোলার লড়াই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অবধি যাঁরা পৌঁছান, তাঁদের ক্রিকেটের বাইরে অন্য কিছু ভাবার সুযোগ থাকে কমই। তবে লেনক্সের লিংকড ইন প্রোফাইলটা বেশ ভারী। গলফ কোর্সের ঘাস কেটেছেন, কাজ করেছেন টেকনিশিয়ানের, এমনকি ল্যাবরেটরিতেও। তালিকায় তাঁর সর্বশেষ সংযোজন ‘ফুল টাইম ক্রিকেটার’।
Visit newssport.cv for more information.
ক্রিকেটই শেষ পর্যন্ত খ্যাতি এনে দিয়েছে লেনক্সকে। তাহলে আগে এত কিছুর চেষ্টা কেন? গতকাল চট্টগ্রামের হোটেল র্যাডিসনের লবিতে বসে লেনক্সের দেওয়া উত্তর, ‘আমাদের তো পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে ৭–৮ মাসের চুক্তি দেওয়া হয়। এ জন্যই অনেকগুলো চাকরি করতে হয়েছে।’
স্কুলজীবন শেষ করেই লেনক্স চলে গিয়েছিলেন ইংল্যান্ডে। দুই বছর সেখানে ক্রিকেট খেলে আসেন অস্ট্রেলিয়ায়। গলফ কোর্স রক্ষণাবেক্ষণের কাজ ‘গ্রিনস্কিপারে’র দায়িত্ব নিয়ে চাকরিজীবনের শুরুও সেখানেই। তবে সেটি গলফের প্রতি ভালোবাসা থেকে নয়, ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাওয়ার বাসনা থেকে।
২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছেন জেইডন লেনক্সলেনক্স বলেছেন, তাঁর মন তখনো পড়ে থাকত ক্রিকেটে, ‘গলফ খেলা আমি একদমই পছন্দ করি না, পারিও না খেলতে। আসলে হয়েছে কি, অস্ট্রেলিয়ায় দুই বছর ক্রিকেট খেলেছি। সেটার সঙ্গেই এই চাকরিটা করেছি।’
লেনক্সের আরও একটা পরিচয়ের কথাও শোনা গেছে এক ধারাভাষ্যকারের মুখে। তিনি নাকি একটা রেস্টুরেন্টও চালান, রান্নাবান্না নাকি তাঁর খুব প্রিয়। এবার বাংলাদেশে এসে এ নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায়ই পড়েছেন লেনক্স, ‘কথাটা কীভাবে ছড়াল কে জানে! আমি রান্না পছন্দ করি, কিন্তু সেটা তো কেবল শখের বশেই!’
নাহিদের পর তানজিদ, ৬ উইকেটে জিতে সিরিজে বাংলাদেশজানুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে জাতীয় দলের দরজা খুলেছে লেনক্সের জন্য। এরপর সুযোগ পেলেন বাংলাদেশে আসা দ্বিতীয় সারির নিউজিল্যান্ড দলেও। ২৫ বছর বয়সে ঘরোয়া ক্রিকেটে পথ খুঁজে পাওয়ার ৬ বছর পর পা পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। যে বয়সে অনেকেই হয়তো শেষের গল্প লিখতে শুরু করেন, লেনক্স তখন আঁকছেন ভবিষ্যতের পথরেখা।
লেনক্সের মুখেই শুনুন সে কথা, ‘বাঁহাতি স্পিন জিনিসটাই এমন, যত বুড়ো হবেন, তত ভালো করবেন। গত তিন–চার বছরে আমিও অনেক স্মার্ট হয়েছি। খেলার যে টেকটিক্যাল দিকগুলো আছে, নিজের স্কিলটাকেও ভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করতে শিখেছি।’
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়েছেন জেইডেন লেনক্সবাঁহাতি স্পিনারদের একসময়ের স্বর্গ বাংলাদেশে আসাটা তাই রোমাঞ্চকর লেনক্সের জন্য। তাঁর চোখে স্পিনে নায়ক বলতে কেউ থাকলে তিনি রবীন্দ্র জাদেজা। তাঁর বিরুদ্ধে খেলাটা তাই ছিল রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। লেনক্সের পছন্দের বাঁহাতি স্পিনারদের তালিকায় আছেন একজন বাংলাদেশিও, ‘আমি সাকিবকে অনেক অনুসরণ করেছি একটা সময়, তাঁর খেলা দেখেছি। সে ছিল সত্যিকারের ম্যাচ জেতানো ক্রিকেটার।’
পুরোনো কোনো কাজে আবার কখনো ফেরার ইচ্ছা আছে কি না, জানতে চাইলে চওড়া হাসি দিয়ে লেনক্স বলেছেন, ‘হয়তো, কেইবা ভবিষ্যৎ বলতে পারে!’ তবে আপাতত তাঁর স্বপ্ন একটাই—ক্রিকেটে ক্যারিয়ারটা অনেক দূর গড়াবে।
নতুন অস্ত্র নয়, নাহিদকে আপাতত ‘জোরে বল করা’র পরামর্শ টেইটের