এত জনপ্রিয়তার পরও কেন কপিলের শো ছেড়েছিলেন ‘দাদি’
· Prothom Alo

ছোট পর্দার অন্যতম জনপ্রিয় কমেডি শো ‘কমেডি নাইটস উইথ কপিল’। আর এই শোতে সবার নজর কেড়েছিলেন কৌতুক অভিনেতা আলী আসগর। ‘দাদি’ চরিত্রে ছোট পর্দার দর্শকের মুখে হাসি ফোটাতে একেবারে সিদ্ধহস্ত আলী। মজার কাণ্ডকারখানা ও সংলাপ দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। ‘কহানি ঘর ঘর কি’র কমল হোক কিংবা ‘দ্য কপিল শর্মা শো’-এর দাদি, দর্শকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। তবে কপিল শর্মার ‘দাদি’র মতো সাফল্য অন্য কোনো চরিত্রে অর্জন করতে পারেননি আলী। তবু কেন এই শো ছেড়ে গিয়েছিলেন? সম্প্রতি এক পডকাস্টে এসে সত্য সামনে আনলেন ‘দাদি’ ওরফে কৌতুক অভিনেতা আলী আসগর।
Visit somethingsdifferent.biz for more information.
আলী আসগর জানান, সন্তানদের স্বার্থেই শো ছাড়তে একপ্রকার বাধ্য হয়েছিলেন। পর্দায় নারী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য স্কুলে সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুরা হাসিঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। তাই অগত্যা কপিল শর্মা শোয়ের ‘দাদি’ চরিত্র থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন আলী। তাঁর দুই সন্তান নুয়ান আসগর ও মেয়ে অদা আসগর। শোয়ের সঞ্চালক জানতে চান, এই চরিত্র তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিল। কিন্তু, সেই সাফল্যই সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়?
‘দাদি’ চরিত্রে আলী আসগর। ফেসবুক থেকেসম্মতি জানিয়ে আলী বলেন, টিভিতে নারী চরিত্রে অভিনয়ের খেসারত দিতে হতো তাঁর দুই সন্তানকে। স্কুলে তাঁকে বিদ্রূপ করা হতো। চাপের মুখে ২০১৭ সালে ‘দ্য কপিল শর্মা শো’–কে বিদায় জানান আলী। তিনি বলেন, ‘“দিওয়ার” ছবিতে ছোটে বচ্চন সাহেবের হাতে লেখা ছিল, মেরা বাপ চোর হ্যায় (আমার বাবা চোর)। আমি চাই না আমার ছেলের হাতে কেউ লিখে দিক, ‘মেরা বাপ আওরাত হ্যায়’ (আমার বাবা একজন নারী)!’ সেই কঠিন সময়ে নিজের সঙ্গে নিজে লড়াই করেছিলেন। মনে হয়েছিল কেরিয়ার থমকে গেল! কিছুটা হেঁয়ালি করে আলী বলেন, ‘যাঁরা শুনবেন তাঁরা ভাববেন, এ পাগল নাকি! কেন ছেড়ে দিল?’
আবার ক্যাফেতে গুলি! সালমানের পর কপিল শর্মাই কি বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নিশানায়সপ্তাহান্তে শনি ও রোববার ‘কমেডি সার্কাসে’ অভিনয় করতেন আলী আসগর। সেখানেও নারী চরিত্রের জন্যই প্রস্তাব এসেছিল আলীর কাছে। আসলে কপিলের শোতে ‘দাদি’র চরিত্রের পর একপ্রকার টাইপ কাস্ট হয়ে গিয়েছিলেন আলী। জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও মনের ভেতর তৈরি হয়েছিল এক চাপা কষ্ট।
সেই প্রসঙ্গে অভিনেতার সংযোজন, ‘“কমেডি সার্কাস”-এও দুই দিনই আমাকে নারী চরিত্রে অভিনয় করতে হতো। লেখকদের কাছেও সহজ ছিল। তাঁরা বলতেন, “আপনি তো এইটাই করেন।” কিন্তু আমার কষ্ট হতো। কারণ, আমি নির্দিষ্ট চরিত্রে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইনি। অন্য কিছু করতে চেয়েছিলাম। প্রতিদিন তো ডাল-ভাত খাওয়া যায় না, মাঝেমধ্যে পুরি-ভাজিও চাই! সুযোগ তো দিতে হবে! না পারলে তখন বলবেন!’
হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে
আলী আসগর ও কপিল শর্মা। ভিডিও থেকে