কুমিল্লায় ভুয়া পরোয়ানায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার, ১৮ ঘণ্টা পর মুক্তি

· Prothom Alo

সোহরাব হোসেন

কুমিল্লায় আদালত থেকে পাঠানো ভুল তথ্যের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর বিচারকের নির্দেশে ওই সাংবাদিক মুক্তি পান।

ভুক্তভোগী সোহরাব হোসেন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের দেবীদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দেবীদ্বার থানা থেকে সোহরাব হোসেনকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক সায়মা শরীফ নিশাত তাঁকে তাৎক্ষণিক মুক্তির নির্দেশ দেন।

Visit sportfeeds.autos for more information.

ওই ঘটনায় আদালতের পেশকার জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, এটা ইচ্ছাকৃত কোনো ঘটনা নয়, যা হয়েছে সেটা ভুলবশত হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দিয়েছেন সাংবাদিক সোহরাব হোসেন।

গত সোমবার বিকেলে দেবীদ্বার উপজেলা সদর থেকে উপপরিদর্শক ভবতোষ কান্তি দের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কুমিল্লার সিআর মামলা নং-৫৭০/২০২৫-এর একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখিয়ে সাংবাদিক সোহরাব হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। সারা রাত থানাহাজতে রাখার পর গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়। পরে বিচারকের নির্দেশে তিনি মুক্তি পান।

সাংবাদিক সোহরাব হোসেন বলেন, ‘আমাকে প্রায় ১৮ ঘণ্টা থানায় আটকে রেখে পরদিন আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে যাওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট আমার কাগজপত্র দেখে জানান, আমার নামে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই। এরপর আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

সোহরাব হোসেন আরও বলেন, ‘ভুয়া ওয়ারেন্টের কারণে আমার সম্মানহানি হয়েছে। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪ নম্বর আমলি আদালতের পেশকার জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। তিনি ওই পরোয়ানা থানায় পাঠিয়েছেন বলে জেনেছি। আমি তাঁর বিচার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এখানে পুলিশের কোনো ভুল হয়নি। ভুলটা হয়েছে আদালত থেকে। সোহরাব হোসেন একটি সিআর মামলার আসামি। তবে তিনি জামিনে আছেন। কিন্তু একই মামলায় অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করতে সোহরাব হোসেনের নামে ভুলবশত ওয়ারেন্ট পাঠানো হয়। বাকিটা আদালতে কর্মরত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভালো বলতে পারবেন।

পেশকার জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, একটি মারামারির মামলায় সোহরাব হোসেনসহ ১০ জন আসামি। এর মধ্যে সোহরাব হোসেনসহ সাতজন জামিনে আছেন। বাকি তিনজনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে গিয়ে আরিফ নামের এক আসামির পরিবর্তে ভুলবশত সোহরাব হোসেনের নামে থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে। আদালত বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে মুক্তি দিয়েছেন।

জসিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিলে সিআর মামলার ক্ষেত্রে মূলত ওয়ারেন্টগুলো লেখেন বাদীপক্ষের আইনজীবী। তবে প্রতিটি ওয়ারেন্টই আমার দেখে থানায় পাঠানোর কথা। এখানে ভুলটা আমারই হয়েছে। এই ভুলের জন্য আমি সোহরাব হোসেনের কাছে ক্ষমাও চেয়েছি। এরপরও একটি পক্ষ তাঁকে উসকানি দিয়ে আদালতে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করিয়েছে। এটা ইচ্ছাকৃত কোনো ঘটনা নয়, যা হয়েছে সেটা ভুলবশত হয়েছে।’

Read full story at source