পাহাড়ে পিচঢালা সড়কের দুই পাশে সবুজ ধানখেত, টানছে পর্যটক

· Prothom Alo

কেউ গল্পে মেতে উঠেছেন, কেউ মোটরসাইকেল ছুটিয়ে উপভোগ করছেন চার পাশের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। আবার কেউ রাস্তার ধারে বসে খাচ্ছেন স্থানীয় মুখরোচক খাবার। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার তারাবুনিয়া সড়কে দেখা মিলল এ দৃশ্য। জায়গাটিতে এখন প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে ভিড় করছেন পর্যটকেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ সবুজ ধানখেতের মাঝ দিয়ে চলে গেছে পিচঢালা সড়ক। দুই পাশে সবুজের সমারোহ। অদূরেই রয়েছে পাহাড়ের সারি। এর মধ্যেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বসতি। প্রথমবার দেখলে এটাকে জীবন্ত প্রাকৃতিক ক্যানভাসও ভাবতে পারেন অনেকেই। মূলত এ কারণেই এলাকাটিতে পর্যটক বাড়ছে।

Visit freshyourfeel.com for more information.

এলাকাটির অন্যতম আকর্ষণ স্থানীয় পাহাড়ি পিঠা। পর্যটন ঘিরে প্রতিদিনই সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন পিঠা নিয়ে বসেন স্থানীয় পাহাড়ি নারীরা। তাঁদের কেউ বিক্রি করেন পিঠা, ভর্তা, পাজন ও তাজা ফল। পর্যটকেরাও এসব খাবার উপভোগ করেন।

জ্ঞান বিকাশ চাকমা, চেয়ারম্যান,  কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদ।সড়কের সৌন্দর্য বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা রাস্তার দুই পাশে গাছ লাগিয়েছি। এতে পরিবেশ যেমন সুন্দর হয়েছে, তেমনি এটি পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

পিঠা বিক্রেতা নমিতা চাকমা বলেন, ‘এখানে যাঁরা ঘুরতে আসেন, তাঁরাই আমাদের মূল ক্রেতা। ছুটির দিনে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত পিঠা বিক্রি করতে পারি। অন্য সময়ও প্রায় দেড় হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। প্রতিদিন বেলা তিনটায় বসি আর রাত আটটায় উঠে যাই।’

দীঘিনালা বাজারের বাসিন্দা জেসমিন চাকমা বলেন, ‘তারাবুনিয়া সড়কটি এখন দীঘিনালার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠেছে। আগে এখানে তেমন কেউ আসতেন না। এখন অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসেন। এতে স্থানীয় নারীরাও অস্থায়ী দোকান বসিয়ে কিছু আয় করতে পারছেন।’

স্থানীয় কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞান বিকাশ চাকমা বলেন, ‘সড়কের সৌন্দর্য বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা রাস্তার দুই পাশে গাছ লাগিয়েছি। এতে পরিবেশ যেমন সুন্দর হয়েছে, তেমনি এটি পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।’

সড়কে ঘুরতে আসা ঘুরতে আসা মো. কিবরিয়া ও অতল চাকমা বলেন, ‘দীঘিনালায় আগে ঘোরার মতো তেমন জায়গা ছিল না। কিন্তু এই সড়ক হওয়ার পর আমরা প্রায়ই বন্ধুদের নিয়ে এখানে আসি। চারদিকে সবুজ ধানখেত, আশপাশে তেমন বসতি নেই, সব মিলিয়ে জায়গাটি অসাধারণ।’

সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন পিঠা নিয়ে বসেন স্থানীয় পাহাড়ি নারীরা। তাঁরা বিক্রি করেন পিঠা, ভর্তা, পাজন ও তাজা ফল। পর্যটকেরাও এসব খাবার উপভোগ করেন। সম্প্রতি তোলা

যেভাবে যাবেন

ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে প্রথমে যেতে হবে খাগড়াছড়ি। সেখান থেকে নানিয়ারচর বা নানসি বাজার এলাকা থেকে পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাহিন্দ্রা (থ্রি-হুইলার) বা মোটরসাইকেলে করে যাওয়া যাবে দীঘিনালা বাস টার্মিনালে। ভাড়া বাহনভেদে ৭০ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হয়।। এরপর সেখান থেকে অটোরিকশায় মাত্র ২০ টাকা ভাড়ায় যাওয়া যাবে তারাবুনিয়া সড়কে।

থাকবেন যেখানে

দীঘিনালা বোয়ালখালী বাজারে হোটেল ইউনিটি ও হোটেল একতা ইন নামে দুটি হোটেল রয়েছে। এখানে ৫০০ থেকে আড়াই হাজারের মধ্যে ভালো কক্ষ পাওয়া যায়। যেসব দর্শনার্থী দূরদূরান্ত থেকে যাবেন, তাঁরা সেখানে থাকতে পারবেন। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের আছে নিজস্ব রেস্টহাউস। সেখানেও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

Read full story at source