ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল না পেয়ে ক্রেতাদের ক্ষোভ, অতিরিক্ত চাপকে দায়ী করছেন স্টেশনের লোকজন

· Prothom Alo

বগুড়ার শেরপুরে জ্বালানি তেল নিয়ে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তীব্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক ক্রেতা তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই পরিস্থিতির জন্য অবৈধ মজুত, অতিরিক্ত ক্রেতার চাপ এবং প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতিকে দায়ী করছেন। উপজেলার একাধিক ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, শেরপুরে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অতিরিক্ত চাহিদার চাপে প্রতিদিনই বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

আজ রোববার সকালে শেরপুরের মেসার্স কুদ্দুস অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মানুষ পেট্রল কেনার জন্য ভিড় করেছেন। তেল সরবরাহ করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই ফিলিং স্টেশনে কথা হয় বগুড়ার ধুনট উপজেলা থেকে আসা শিহাব হোসেনের সঙ্গে। ধুনটে তেল না পেয়ে তিনি শেরপুরে এসেছেন। এক ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তিনি নিশ্চিত নন, তেল পাবেন কি না।

Visit moryak.biz for more information.

শেরপুরের রানীরহাট এলাকা থেকে আসা সোলায়মান আলী ও সাইফুল ইসলাম বলেন, জরুরি কাজে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। ফিলিং স্টেশনে এসে দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেও ট্যাংকিতে তেল তুলতে পারেননি। ট্যাংকিতে কোনো পেট্রলও নেই। মোটরসাইকেল নিয়ে অন্য কোথাও যেতেও পারছেন না। আর কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে, সেটিও জানানো হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশন–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সরবরাহ বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। মেসার্স কুদ্দুস অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবদুল হামিদ বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁরা ২৭ হাজার লিটার পেট্রল বিক্রি করেছেন, যা মার্চ মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৩৫ হাজার লিটারে। তবু ক্রেতার চাপ এত বেশি যে তাঁরা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন।

মেসার্স তৌহিদ ফিলিং স্টেশনের হিসাবরক্ষক মো. ইমরান হোসেন অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে একই ব্যক্তি একাধিকবার তেল সংগ্রহ করছেন। ফলে প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করা যাচ্ছে না এবং সাধারণ ক্রেতারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

তেল সরবরাহের সময় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাম্পের মালিকরা। মেসার্স মির্জাপুর ফিলিং স্টেশনের মালিক ফাহিমুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসের ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় এক লরি তেল আনলে মুহূর্তেই শত শত মোটরসাইকেল পাম্পে ভিড় করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করা হলেও তারা দেরিতে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। তবে সেদিন প্রায় ১৫ হাজার টাকার তেল বিক্রির হিসাব মেলেনি বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে মেসার্স স্বাক্ষর ফিলিং স্টেশনের হিসাবরক্ষক আবু জাফর বলেন, তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। তবে অসাধু চক্রের মজুত এবং আশপাশের উপজেলা থেকে ক্রেতা আসার কারণে সাত দিনের তেল মাত্র তিন ঘণ্টায় শেষ হয়ে যাচ্ছে।

অন্তত ১০ জন মোটরসাইকেলচালক অভিযোগ করে বলেন, কিছু ব্যক্তি প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে অবৈধভাবে মজুত করছেন এবং পরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। আগে গ্রামীণ বাজারগুলোতে কিছুটা বেশি দামে হলেও খোলা তেল পাওয়া যেত, কিন্তু বর্তমানে সেটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবাই শহরের পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, পাম্পগুলোতে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কিন্তু কিছু ক্রেতার দায়িত্বহীনতার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পাম্পগুলোতে আজ রোববার থেকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা তেলের বিক্রয় ও মজুতের হিসাব রাখছেন। কেউ যেন অবৈধভাবে মজুত করতে না পারেন, এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

Read full story at source