রক্তে আঁকা সেই ভোরের গল্প

· Prothom Alo

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে সৈয়দপুরের ইতিহাস ও বীরত্বগাথা নিয়ে আলোচনা সভা ও পাঠচক্রের আসর করেছে সৈয়দপুর বন্ধুসভা। ২৬ মার্চ বিকেলে সৈয়দপুর পাইলট হাইস্কুল মাঠে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

Visit afnews.co.za for more information.

‘রক্তে আঁকা সেই ভোরের গল্প’ শিরোনামে আলোচনার পুরোটা জুড়েই ছিল একাত্তর। বন্ধুরা গোল হয়ে ঘাসের ওপর বসে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সাদ ইবনে আলম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস আমাদের শিকড়। এই ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বিকৃত না করে পৌঁছে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

বন্ধু নুসরাত জাহান বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবস আমাদের গর্বের দিন। দীর্ঘ সংগ্রাম ও অগণিত প্রাণের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত এই স্বাধীনতাই আমাদের পরিচয়।’

একই সুরে কথা বলেন মাহমুদা আক্তার। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বকে স্মরণ করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলার আপামর জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তাঁর নেতৃত্বে অর্জিত এই স্বাধীনতাই আজ বিশ্ব দরবারে আমাদের গর্বের পরিচয়।’

এ ছাড়া আলোচনা করেন প্রভাত ঠাকুর, রেজা আহমেদ ও আতাউ ফাতেমাসহ অন্য সদস্যরা। প্রথম আলোর প্রতিনিধি এম আর আলম একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সৈয়দপুরের স্থানীয় প্রেক্ষাপট, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা এবং স্থানীয় মানুষের প্রতিরোধ ও বীরত্বের কাহিনি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সৈয়দপুরের মাটি কীভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে সৈয়দপুরের ইতিহাস ও বীরত্বগাথা নিয়ে সৈয়দপুর বন্ধুসভার আলোচনা সভা ও পাঠচক্রের আসর

নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সঠিক ইতিহাস ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ পাঠচক্র। আনিসুল হকের জনপ্রিয় উপন্যাস ‘রক্তে আঁকা ভোর’ নিয়ে এই পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। বন্ধুরা উপন্যাসের নির্বাচিত অংশগুলো এক এক করে পাঠ এবং এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেন।

পাঠচক্র শেষে বন্ধু শামীম আল সাজিদ বলেন, ‘“রক্তে আঁকা ভোর” আমাদের মনে করিয়ে দেয়—“ভোর” মানে স্বাধীনতার নতুন সূচনা, আর “রক্তে আঁকা” বোঝায় সেই স্বাধীনতা এসেছে অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে। আমাদের লাল-সবুজের পতাকাটি লক্ষ প্রাণের রক্ত আর কোটি মানুষের কান্নার বিনিময়ে কেনা; তাই এর মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব।’

শামীম আল সাজিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আপসহীন নেতৃত্ব, তাজউদ্দীন আহমদের প্রশাসনিক দূরদর্শিতা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহস ও সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় ত্যাগের এক সম্মিলিত ফসল। লেখক এখানে ইতিহাসের শুষ্ক তথ্যকে সাহিত্যের রসে সিক্ত করে জীবন্ত করে তুলেছেন।’

সৈয়দপুর পাইলট হাইস্কুল মাঠের খোলা হাওয়া আর পড়ন্ত বিকেলের রোদ যেন একাত্ম হয়ে গিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর বন্ধুসভার উপদেষ্টা হোসনে আরা লিপি, সভাপতি মমতাজ পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার, বন্ধু মো. রাশেদ, তাহসিন আরিফ, শ্রাবণী রায়, এম হাসান হাবিবসহ অন্য সদস্যরা।

Read full story at source